22/04/2025
💐💐💐💐💐💐💐💐💐💐
১৯ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।
💐💐💐💐💐💐💐💐💐💐
নুর আহমদ চৌধুরী।
(১৯২২-২০০৬ খ্রি.)
প্রতিষ্ঠাতা:-
দক্ষিণ কাঞ্চনা নুর আহমদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়।
প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক:-
ঢেমশা হাই স্কুল।
পিতার আদর্শ অনুসরণে নুর আহমদ চৌধুরী একজন অরাজনৈতিক ও অসাম্প্রদায়িক সমাজকর্মী ও শিক্ষাসেবক ছিলেন। বৃহত্তর সাতকানিয়ার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে গতিশীল করতে তার অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে ।
বৃহত্তর সাতকানিয়ার ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষাঙ্গনমুখী করার ক্ষেত্রে নুর আহমদ চৌধুরীর নিজস্ব শিক্ষা উদ্যোগ ছিল প্রশংসনীয়। কাঞ্চনা ও এওচিয়ার অনগ্রসর জনগণের মাঝে শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে তিনি সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে নিজের নামে ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে জোটপুকুরিয়ায় দক্ষিণ কাঞ্চনা নুর আহমদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ‘মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড' কুমিল্লা'র ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষক ছিলেন। সেই সুবাদে তিনি অনেক স্কুল প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন ।
নুর আহমদ চৌধুরী কাঞ্চনা ইউনিয়নের দক্ষিণ কাঞ্চনা ৮নং ওয়ার্ডে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম হাজী নেয়াজুর রহমান চৌধুরী ও মাতা আফিয়া খাতুন চৌধুরী।
নুর আহমদ চৌধুরী কাঞ্চনা পালপাড়া ফ্রি প্রাইমারি স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে একেবিসি ঘোষ ইনস্টিটিউট (কাঞ্চনা হাই স্কুল) থেকে এসএসসি পাস করেন। চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রাইভেটে বিএ পাস করেন। অতঃপর শিক্ষকতায় পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে কুমিল্লা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন । এছাড়াও তিনি হোমিওপ্যাথির ওপর এমবিএইচ ডিগ্রি নেন।
নুর আহমদ চৌধুরী সাতকানিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে ঢেমশা হাই স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে একটানা আটচল্লিশ বছর শিক্ষকতা শেষে ২০০০ খ্রিস্টাব্দে অবসর নেন। তিনি সৌখিন জীবনযাপন করতেন। কর্মজীবনের প্রথম দিকে ঘোড়ায় চড়ে স্কুলে যেতেন ।
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে নুর আহমদ চৌধুরী কাঞ্চনা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। আমিলাইশ, কাঞ্চনা, নলুয়া ও ঢেমশা এলাকার হিন্দু সম্প্রদায় ও মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক সহায়তা করেছেন। এমনকি এসব এলাকার সম্ভ্রান্ত গণ্যমান্য অনেক হিন্দু মুসলিম ব্যক্তিদের নিজ বাড়িতে দিনের পর দিন আশ্রয় দিয়েছেন।
নুর আহমদ চৌধুরী সাহিত্য ভালবেসে বাংলা সাহিত্যে পড়েছেন ও পড়িয়েছেন। নিজে শিক্ষকতার পাশাপাশি কবিতাও লিখেছেন। তার লিখিত ‘কেরানী' নামক কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি কবিরত্ন উপাধি লাভ করেন ।
নুর আহমদ চৌধুরী ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে ২২ এপ্রিল বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যু বরণ করেন।
নুর আহমদ চৌধুরী অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন।
তার স্ত্রী মরহুমা আনোয়ারা বেগম।
সন্তান-সন্ততি:
১। মরহুম হাজী আবদুল মাবুদ চৌধুরী।
২। হোসনে আরা বেগম চৌধুরী।
৩। মরহুম আবদুল আজিম চৌধুরী।
৪। মরহুম মহিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।
৫। ইয়াসমিন আক্তার চৌধুরী।
তথ্যসূত্র:-
লেখক মোয়াজ্জেম হোসেন রচিত গবেষণা গ্রন্থ "সাতকানিয়া-লোহাগাড়া মনীষা" থেকে।