31/08/2020
“চীনা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উন্নতি এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন”
চিঠিতে ফুটে ওঠা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আকুতি যে-কাউকে নাড়া দেবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও চিঠিটিকে সিরিয়াসলি নেবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আলোচনার মাধ্যমে এই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নিজ নিজ ক্যাম্পাসে ফেরার সুযোগ সৃষ্টি করা অসম্ভব হবার কথা নয়। চিঠিটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গৃহীত হয়েছে ২৫ অগাস্ট। চিঠির একটি ছবি চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইচ্যাটে বাংলাদেশিদের একটি গ্রুপে শেয়ার করা হয়েছে। আমি সেই গ্রুপের একজন সদস্য হিসেবে সেটি দেখেছি।
চীন সরকার বরাবরই শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে। বিদেশি শিক্ষার্থীরা এর বাইরে নয়। তবে, এ কথা ঠিক যে, মহামারির শুরু থেকেই চীন সরকার মানুষের জীবন বাঁচানোর ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তাই, মহামারি নিয়ন্ত্রণকাজ এদেশে পাচ্ছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।মহামারির পুনরাবির্ভাব ঠেকাতে চীন সরকার সম্ভাব্য সবকিছু করেছে ও ভবিষ্যতেও করবে।
চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অনুসারে, দেশটিতে ২০১৮ সালে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪৯২,১৮৫ জন, যারা এসেছে ১৯৬টি দেশ বা অঞ্চল থেকে। এ সংখ্যা ছিল আগের বছরের চেয়ে ৩০১৩ জন বেশি। আর ২০১৮ সালে চীনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১০,৭৩৫ জন। ২০২০ সালে এসে এই সংখ্যা অনেক বেড়েছে, যা সহজেই অনুমান করা যায়।
এই সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে ও ভবিষ্যতেও বাড়বে। এর কারণ, চীনে শিক্ষার মান ক্রমশ উন্নত থেকে উন্নততর হচ্ছে। তাই বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় দু’শ দেশ থেকে স্কলারশিপ নিয়ে যেমন ছেলেমেয়েরা চীনে পড়তে আসছেন, তেমনি নিজ খরচেও অসংখ্য শিক্ষার্থী পড়ছেন। চীনের শিক্ষার মান যে বেড়েছে ও বাড়ছে, নিজ খরচে পড়তে আসা বিদেশি শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতিও তা প্রমাণ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিশ্ব রেঙ্কিংয়ের দিকে তাকালেও আমরা দেখবো, চীনের শিক্ষার মান দ্রুত উন্নত হচ্ছে। গত ১৫ অগাস্ট শাংহাই রেঙ্কিং কনসাল্টেন্সি প্রকাশ করেছে ‘একাডেমিক রেঙ্কিং অব ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিজ, ২০২০’ রিপোর্ট। এটি সংস্থার অষ্টাদশ বার্ষিক রিপোর্ট। সংস্থার রিপোর্টবিশ্বব্যাপীই সমাদৃত উদাহরণস্বরূপ, ইউরোপীয় ইউনিয়নে ২০১৮ সালের বিজ্ঞান, গবেষণা ও ইনোভেশান পারফরমেন্সসংক্রান্ত ইউরোপীয় কমিশনের রিপোর্টে শাংহাই র্ রেঙ্কিংয়ের কনসাল্টেন্সির রিপোর্টের বরাত দেওয়া হয়েছে। ম্যাঞ্চেস্টার ইউনিভার্সিটি তাদের ২০১৪-১৪ স্টকটেইক রিপোর্টেও এ সংস্থার উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্ত প্রমাণস্বরূপ ব্যবহার করেছে। যাই হোক, শাংহাই র্ রেঙ্কিং কনসাল্টেন্সির করা ২০২০ সালের রেঙ্কিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি আছে যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে। তৃতীয় স্থানে আছে যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি। হার্ভার্ড বিগত ১৮ বছর ধরেই র্ রেঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, র্রেঙ্কিংয়ে বিশ্বের শীর্ষ ১০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চীনের মূল ভূভাগের আছে মোট ১৪৪টি, আগের বছরের চেয়ে যা ৪০টি বেশি। আবার রেঙ্কিংয়ে প্রথম ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চীনের মূল ভূভাগের আছে ৬টি। এগুলোর মধ্যে সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় জাপানের কিওটো বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে এবার উঠে এসেছে ২৯তম স্থানে। এশিয়ায় এখন সেকেন্ড-বেস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সিংহুয়া। এশিয়ার বেস্ট ইউনিভার্সিটি হচ্ছে ইউনিভার্সিটি অব টোকিও। চীনের মূল ভূভাগের বাইরে, হংকং, ম্যাকাও, ও তাইওয়ানের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ও শীর্ষ ১০০০-এ স্থান পেয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১০টি আছে শীর্ষ ৫০০-এ।শীর্ষ ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আছে চীনের পিকিং ইউনিভার্সিটি, জেজিয়াং ইউনিভার্সিটি, ও শাংহাই জিয়াও থং ইউনিভার্সিটিও। এবার নতুন করে দু’টি চীনা বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষ ১০০-তে স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে ফুতান ইউনিভার্সিটি আছে ১০০তম স্থানে এবং চীনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আগের বছরের ১৫০তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ৭৩তম স্থানে। বলে রাখি, সংস্থাটি বিশ্ব র্যাংকিং তৈরির সময় চারটি মূল বিষয় বিবেচনায় রাখে: শিক্ষার মান, শিক্ষকদের মান, গবেষণার ফল, ও মাথাপিছু পারফরমেন্স।
২০০৩ সালে শাংহাই র্যাংকিং কনসাল্টেন্সি তাদের প্রথম র্যাংকিং প্রকাশ করেছিল। তখন মাত্র ৯টি চীনা বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষ ৫০০-এ স্থান পেয়েছিল। তখন শীর্ষ ২০০-এ কোনো চীনা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। সংস্থার রিপোর্ট অনুসারে, বিগত ১৮ বছরে চীনা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সার্বিক পারফরমেন্স ও বিশ্বে তাদের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বস্তুত, এটা শুধু শাংহাই র্রেঙ্কিংয়ে কনসাল্টেন্সির বিচারেই সত্য, তা নয়; বিশ্বের অন্যান্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত র্রেঙ্কিংয়ে দিকে তাকালেও আমরা এ সত্য বুঝতে পারি। কিউআর ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্রেঙ্কিংয়েয়ের কথা ধরা যাক। এ সংস্থার চলতি বছরের র্রেঙ্কিংয়েয়ে চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান আগের বছরের ১৬তম থেকে উঠে এসেছে ১৫তম স্থানে। র্রেঙ্কিংয়ে শীর্ষ ১০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চীনের মূল ভূভাগের ৫১টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। আগের বছরে যে সংখ্যা ছিল ৪২। চীনের শিক্ষার মান দিন দিন উন্নত হচ্ছে, শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিক থেকে আধুনিকতর হচ্ছে। এ সত্য এখন আর অস্বীকার করার উপায় নেই। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে চীনের উন্নয়ন অবাক-করা। চীনের বিজ্ঞানীদের তৈরি চন্দ্রযান চাঁদের অন্ধকার অঞ্চলে নেমে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে; মঙ্গলযান ছুটে চলেছে মঙ্গল গ্রহের পানে। বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তির জগতে একের পর এক বিস্ময় সৃষ্টি করে চলেছে চীন। বিশ্বগ্রামে এখন আর এসব সত্য চেপে রাখার উপায় নেই। শত্রুরা বসে নেই, এ কথা সত্য। চীনের টেক জায়ান্ট হুয়াওয়ের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে; টিকটকের মতো একটি চীনা ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপকে ছলে-বলে-কৌশলে দখল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে খোদ ট্রাম্প-প্রশাসন। কিন্তু দিনশেষে চীন সামনে এগিয়েই যাবে; সমৃদ্ধ হতে থাকবে চীনের শিক্ষা ও জ্ঞানের ভাণ্ডার। আর এই সমৃদ্ধ শিক্ষা ও জ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকবে মীম-ঊমিরা। মহামারি তাদের শিক্ষার পথে সাময়িক বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে,এ কথা সত্য। কিন্তু সকল বাধা শিগগিরি দূর হবে, তাদের পদচারণায় আবারও মুখরিত হবে চীনের শত শত বিশ্ববিদ্যালয়, এমন আশা আমরা করতেই পারি।
Author: alimul-hoque ,Message Editor, CMG
“উৎকর্ষ চায়না”কতৃক সংগৃহিত
••••••••••••••••••••••••••••••••