10/09/2019
ইন্টারভিউ [পর্ব ১]
শিক্ষা জীবন শেষ করে সবার স্বপ্ন থাকে পছন্দ মতো ক্যারিয়ার গড়ার। নিজের নামের সঙ্গে প্রিয় পদবীটি পাওয়ার জন্য আমাদের বসতে হয় হট সিটে, মানে চাকরির সাক্ষাৎকার। আমরা সফল হতে চাই, ইন্টারভিউ বোর্ডের সবাইকে সস্তুষ্ট করে। কিন্তু তার পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে তো? এই পর্বে আমরা জানাবো ইন্টারভিউ এর ধাপগুলো নিয়ে
লিখিত পরীক্ষা:
একটি খালি পদের জন্য যখন ৫০ থেকে ১০০ বা তার চেয়েও বেশি আবেদন পড়ে তখন মেধা যাচাইয়ের জন্য অনেক কোম্পানি লিখিত পরীক্ষার আয়োজন করেন। লিখিত পরীক্ষা গুলোতে আপনি যে পদের জন্য আবেদন করেছেন ওই পদের কাজের সাথে সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন থাকবে। এরপর প্রশ্ন থাকবে কিছু সাধারণ জ্ঞান, কিছু অনুবাদ। উপস্থিত বুদ্ধি পরীক্ষার জন্য থাকবে কিছু প্রশ্ন। এক এক কোম্পানির প্রশ্ন ও নম্বর বন্টনের ধরন এক এক রকম।
মৌখিক পরীক্ষা:
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ডাকা হয় মৌখিক পরীক্ষায়। মৌখিক পরীক্ষা নানান ভাবে হতে পারে। ধরুন, ১০০ জনের মধ্য থেকে ৮ জনকে ইন্টারভিউ দিতে ডাকা হয়েছে। চলুন দেখি কি কি হতে পারে এখানে:
১। ৮ জনকে হয়তো দুইটি দলে ভাগ করে দেওয়া হল। তাদেরকে কোন একটা বিষয়ে তর্ক করতে বলা হল। তর্কের বিষয় অনেক রকম হতে পারে। যেমন ধরুন, “স্মার্ট ওয়ার্ক ও হার্ড ওয়ার্ক”, “জীবনে টাকা ও সম্মানের গুরুত্ব” ইত্যাদি যে কোন বিষয়। বিশেষ করে বিক্রয়, কাস্টমার কেয়ার, সাপ্লাই চেইন এমনকি উৎপাদন বিভাগে লোক নিয়োগের ক্ষেত্রেও তর্কের আয়োজন করা হয়। প্রশ্ন হতে পারে, কেন এই তর্কযুদ্ধ? আসলে এই তর্কের মাধ্যমে যাচাই করা হয়, আপনি আসলে নির্দিষ্ট বিষয়ে কতটা ফোকাস করে কথা বলতে পারেন ও আপনি কতটা যুক্তিবাদী। দেখা হয় আপনি গঠনমূলক সমালোচনা করতে পারেন কি না।
এটাকে ইংরেজী তে বলে Group Discussion.
২। যে কোন ঘটনার উপর আপনাকে উপস্থিত বক্তৃতা দিতে হতে পারে। যেমন ধরুন, মেট্রোরেল, ফ্লাইওভার, বইমেলা, প্রিয় মুভি, প্রিয় নেতা ইত্যাদি। আপনাকে যে বিষয় দেওয়া হবে সেটা আপনি কতটা সাবলীল ভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন সেটিই বিচার করা হয় এখানে। অনেক ক্ষেত্রে এখানে নম্বর দেয়ার কাজটা করে বাকি ক্যান্ডিডেটরা।
৩। আপনাকে বলা হতে পারে কোন একটি পেপারের অংশ বিশেষ দিয়ে সেটি বাংলায় অনুবাদ করতে। পরবর্তীতে বলা হতে পারে সেটা বাংলা ও ইংরেজিতে টাইপ করতে। আপনার অনুবাদের দক্ষতা ও টাইপ স্পিড দুটোই জানা হয়ে গেল এই টেস্টের মাধ্যমে। ভালো কোম্পানি ভালো পোস্টের জন্য শুধু টাইপ স্পিড বা অনুবাদের দক্ষতাই যাচাই করে না, তারা অনেক সময় এক্সেলেরও ছোট খাটো সমস্যা সমাধান করতে বলে।
৪। আধা ঘন্টার প্রেজেন্টেশন তৈরি করতে বলাটা বেশ কমন হয়ে যাচ্ছে আজ কাল। একটি নির্দিষ্ট বিষয় দিয়ে দেওয়া হয়। কখনো গ্রুপে, কখনো বা এককভাবে তৈরি করতে হয় প্রেজেন্টেশন। সেখানে বিচার করা হয় আপনি টিমে কতটা কাজ করতে পারেন, আপনি কতটা লিড নিতে পারেন। আর সবশেষে যাচাই করা হয় আপনার প্রেজেন্টেশন স্কিল। পাওয়ার পয়েন্টে কাজ পারেন কি না সেটাও রিক্রুটার এখান থেকেই যাচাই করতে পারেন। তাই যারা ল্যাবে ফাঁকি দেন, অ্যাসাইনমেন্ট আরেকজনেরটা কপি করেন তারা সাবধান। একদিন কিন্তু ঠিকই ধরা খেয়ে যাবেন।
উপস্থিত বুদ্ধি যাচাই প্রায় সকল বহুজাতিক কোম্পানিতেই করা হয়। “আপনি জঙ্গলে যাবেন, কোন জিনিসটি সাথে নিবেন?”, “আপনাকে এক মাস ছুটি দিলে কি করবেন?”, “এক কোটি টাকা পেলে কি করবেন?”, এরকম প্রশ্ন করা হবে আপনাকে। উত্তর ভেবে চিন্তে দিতে হয় এসব ক্ষেত্রে। আপনি হয়তো বললেন বনে টর্চ লাইট নিয়ে যাবেন। তাহলে খাবেন কি? ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলেই বা কি করবেন? আপনি বললেন আপনি বই নিয়ে যাবেন। তাহলে আত্মরক্ষা করবেন কিভাবে? এই ধরনের প্রশ্ন করে যাচাই করা হয় আপনার দূরদৃষ্টি। চাকু হতে পারে একটি সঠিক উত্তর। আত্মরক্ষা হবে, খাবারও খাওয়া যাবে। আগুন আরেকটি ভালো উত্তর হতে পারে। উপস্থিত বুদ্ধি যাচাই করার জন্য অনেক সময় ধাঁধা দেওয়া হয়। [চলবে]