03/01/2023
সামনের পরীক্ষাগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ🥰
✅ মেট্রোরেল (এমআরটি লাইন-৬):
🔶 অনুমোদনঃ একনেক সভায় ১৮ ডিসেম্বর, ২০১২
🔶নির্মাণ কাজ শুরুঃ ২৬ জুন, ২০১৬
🔶রুটঃ উত্তরা থেকে কমলাপুর
🔶সম্ভাব্য ব্যয়ঃ প্রাক্কলিত ব্যায় মোট ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। প্রকল্প সহায়তা ১৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা, বাংলাদেশ সরকার ১৩ হাজার ৭৫৪ কোটি টাকা।
🔶উন্নয়ন সহযোগীঃ জাইকা, জাপান
মালিকানাঃ ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (DMTCL)
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানঃ ৮ টি প্যাকেজের মাধ্যমে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হচ্ছে-
🔹প্যাকেজ-০১ঃ টোকিও কন্সট্রাকশন কোম্পানি, জাপান
🔹প্যাকেজ-০২, ০৩, ০৪ঃ ইতাল-থাই ডেভেলপমেন্ট, থাইল্যান্ড ও সিনোহাইড্রা, চীন
🔹প্যাকেজ-০৫ঃ টেক্কেন করপোরেশন; আবদুল মোনেম লিমিটেড; আবে নিক্কো কোগিও কোম্পানি লিমিটেড
🔹প্যাকেজ-০৬ঃ সুমিতোমা মিতসুই কনস্ট্রাকশন কোম্পানি, জাপান এবং ইতাল-থাই ডেভেলপমেন্ট, থাইল্যান্ড
🔹প্যাকেজ-০৭ঃ মারুবিনি করপোরেশন, জাপান এবং এল অ্যান্ড টি, ভারত
🔹প্যাকেজ-০৮: কাওয়া সাকি- মিতসুবিশি কনসোর্টিয়াম, জাপান
🔶ধরন👉 উড়াল সেতু
🔶দৈর্ঘ্য👉 ২১.২৬ কিলোমিটার
🔶স্টেশন সংখ্যা👉 ১৭ টি
🔶সক্ষমতা👉 ঘণ্টায় ৬০ হাজার এবং দিনে ৫ লাখ যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে
🔶টিকেট পদ্ধতিঃ এমআরটি লাইন-৬ বা বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেলে Single Journey Ticket এবং MRT Pass ব্যবহার করে যাতায়াত করা যাবে। Rapid Pass ব্যবহার করেও যাত্রীসাধারণ স্বাচ্ছন্দ্যে মেট্রোরেলে যাতায়াত করতে পারবেন। Ticket Office Machine (TOM) হতে বিক্রয়কারীর সহায়তায় Single Journey Ticket এবং MRT Pass ক্রয় করা যাবে।
🔶বিদ্যুৎ ব্যবস্থাঃ মেট্রোরেল পরিচালনায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে উত্তরা ডিপো এবং মতিঝিল এলাকায় দুটি রিসিভিং সাবস্টেশন থাকবে। মতিঝিল রিসিভিং সাবস্টেশনে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবি) এর মানিকনগর গ্রিড সাবস্টেশন হতে ১৩২ কেভি এর দুইটি পৃথক সার্কিট এবং উত্তরা রিসিভিং সাবস্টেশনে পিজিসিবি এর টংগী গ্রিড সাবস্টেশন হতে ১৩২ কেভি এর একটি সার্কিট ও ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) এর উত্তরা গ্রিড সাবস্টেশন হতে ১৩২ কেভি এর অপর একটি সার্কিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণ করবে।
🔶পরিবেশ দূষণ রোধে বিভিন্ন ব্যবস্থাঃ MRT Line-6 এর প্রতিটি প্যাকেজের নিয়োজিত ঠিকাদার Construction Environmental Management Plan (CEMP) অনুসরণে পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়সমূহ যেমন: Air, Water, Noise, Waste Management, Dust Control, Drain and Footpath Management ইত্যাদির বাস্তবায়ন ও মনিটর করে থাকে। পরিবেশে যাতে বিরূপ প্রভাবনা পড়ে সেজন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্তৃক প্রতিদিন প্রকল্প এলাকায় একাধিক বার পানি ছিটানো হচ্ছে। প্রকল্প এলাকায় উত্তোলিত মাটি ঢেকে রাখা হয় এবং প্রয়োজনে ঢেকে পরিবহন করা হয়। শব্দ দূষণরোধে জেনারেটর গুলোতে ক্যানপি ব্যবহার করা হয় এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশে Mitigation Measures গ্রহণ করা হয়েছে। পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণে Construction Yard ও Batching Plant এলাকার অভ্যন্তরীণ ড্রেনের পানি পরীক্ষা করে তা স্বাভাবিক মানমাত্রায় এনে অবমুক্ত করা হয়।
🔶ঋণ পরিশোধের উপায়ঃ বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীদের বেতন, রক্ষণাবেক্ষণ, বৈদেশিক ঋণ এবং সরকারি বিনিয়োগের রিটার্নসহ এমআরটি-এর সব খরচ মেটানোর জন্য ভাড়ার টাকা যথেষ্ট হবে না। সে জন্য ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) নন-ফেয়ার উৎস থেকে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ রাজস্ব তৈরি করার পরিকল্পনা করছে। প্রতিটি স্টেশনে ট্রানজিট-ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট (টিওডি), স্টেশন প্লাজা এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক সুবিধা সংযুক্ত করা হবে। উত্তরা নর্থ স্টেশন, আগারগাঁও ও মতিঝিল স্টেশন সংলগ্ন স্টেশন প্লাজা নির্মাণ করা হবে।
🔶আর্থ সামাজিক গুরুত্বঃ যানজটের অর্থপোচয় রোধ নিরস্বন: ২০১৮ সালের বুয়েট পরিচালিত এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ঢাকা শহরের যানজটের জন্য ৪.৪ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়। যা বাজেটের প্রায় ১০ শতাংশ। বছরেএই প্রকল্পের মাধ্যমে এই খরচ বহুলাংশে হ্রাস পাবে।
🔶যানজটের সময়াপোচয় রোধঃ উত্তরা থেকে মতিঝিল প্রায় ২০ কিলোমিটার রাস্তায় চলচালের জন্য সময় লাগে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। বিশ্বব্যাংকের ২০১৭ এর প্রতিবেদন আনুযায়ী ঢাকার যানজট কারণে প্রতিদিন ৩ মিলিয়ন কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সময় কমে দাঁড়াবে ৪০ মিনিটে, যা অপচয় হওয়া কর্মঘণ্টা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হ্রাস করবে।
🔶সামগ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধিঃ এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকার দুই প্রান্তের যোগাযোগ উন্নয়ন হবে, যা সড়ক পথের উপর চাপ কমাবে। ফলস্বরূপ ঢাকার অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং পাশাপাশি সাশ্রয় হবে। প্রকল্প বিশ্লেষণ তথ্য অনুযায়ী এই প্রকল্প দেশের জিডিপি ১ শতাংশ বৃদ্ধি করবে।
🔶আবাসন সমস্যার সমাধানঃ মেট্রোরেল চালু হলে ঢাকা শহর থেকে জনসংখ্যার ঘনত্ব কমানো যাবে। মানুষ বাসা ভাড়া অনেক কম খরচ করে শহরের বাইরে থাকতে পারে এবং অফিস ও অন্যান্য কাজে সহজে ঢাকায় আসতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, গাজীপুর বা নারায়ণগঞ্জ এলাকায় বসবাসকারী লোকেরা সমস্ত রুট সম্পূর্ণ হয়ে গেলে এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে মূল শহরে যেতে পারে।
🔶পরিবেশ দূষণহ্রাসঃ ঢাকার রাস্তায় চলমান সব যানবাহন জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভর করে, যা পরিবেশ দূষণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। এ ছাড়া ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়নের উদ্যোগ চলছে। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা ধারাবাহিকভাবে শীর্ষে রয়েছে। বিদ্যুৎ চালিত মেট্রোরেল রাজধানীর জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহারের উপর চাওপ কমিয়ে পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।