01/08/2017
সিভিতে যে ১০ টি বিষয় চাইঃ
১। উল্টাপাল্টা ফন্ট আর চোখ ধাঁধানো রঙ দিয়ে দিয়ে সিভিটা হিজিবিজি আর বিল বোর্ড এর মত বানাবেন না। সহজ-সুন্দর আর সাবলীল করে তথ্য উপস্থাপন করুন। ছবিটা অবশ্যয় মডেলদের মত করে দেবেন না। এখন অনেকেই এই ভুল টা করেন। বি প্রফেশনাল, প্লীজ!
২। সিভির শুরুতে স্পষ্ট করে আপনার সেল নাম্বারটা আর ইমেইল আইডিটা দিন। পারলে, একটা নাম্বার আর একটা ইমেইল আইডি দিন যেগুলোতে আপনি অ্যাভেইলেবল। অনেক সময়, আমরা একটা নাম্বার বন্ধ পেলে, আরেকটাতে করতে চাইনা।
৩। পারলে, নিজের সম্পর্কে ছোট্ট একটা হাইলাইটস লিখুন যেটাতে আপনি আপনার লাইফের ভাইটাল ঘটনা গুলো উল্লেখ করুন। আপনার হাইলাইটস আপনাকে অন্যের চেয়ে আলাদা হতে সহায়তা করবে।
৪। ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ নিয়ে ধানাই-পানাই বক্তব্য লিখিয়েন না। যেটা হতে চান, খুব ছোট্ট করে এক লাইনে লিখুন। একটা ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ সব জায়গাতে চালাবেন না। টিএসও-এর সিভিতে যে অবজেক্টিভ লিখবেন, সেই অবজেক্টিভ যদি ব্যাংকের ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি পদের জন্য দেন, তবে ধরা খাবেন নির্ঘাত। কপি-পেস্টিং-এর যুগ অনেক আগেই শেষ!
৫। পড়াশুনার কথা লিখবার সময় খুব স্ট্রেইট-ফরওয়ার্ড হোন। সরাসরি লিখুন, কোথায় পড়েছেন, কি পড়েছেন, কি রেজাল্ট করেছেন আর কোন সালে এসব করেছেন। নিজের অর্জনটা লিখতে ভুলবেন না কিন্তু!
৬। এক্সট্রা কারিকুলার খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার। এটাকে নাম্বার-ড্রিভেন করুন। যেমন ধরুন, আপনি অমুক ক্লাবের তমুক ছিলেন না লিখে, লিখুন, অমুক ক্লাবের তমুক থাকার সময়, এত এত ইভেন্ট করেছেন, এত এত ছাত্রের/ মানুষের সাথে ইন্টের্যাক্ট করেছেন, এটা আপনার সিভিকে ফ্যাক্ট-বেইজড করবে, যেটা আমাদের খুব পছন্দ।
৭। দক্ষতা লিখবার সময়, আপনি ওটাতে খুব ভালো, অনেক দখল এসব ভেইগ কথা-বার্তা না লিখাই ভালো। যদি আপনি নিজেকে টীম ওয়ার্কে ভালো মনে করেন, তবে তথ্য-সম্বলিত উদাহরণ দিন, যেখানে আপনার টীম ওয়ার্কের প্রমান পাওয়া যায়, যাতে আমরা আপনাকে আর দশ জন থেকে আলাদা করতে পারি। নিশ্চিত করে একটা কথা বলি, ইদানীং, দক্ষতা বুঝানোর জন্য অনেকেই কিছু বার চার্ট ইউজ করেন। এটা দক্ষতার লেভেল বুঝানোর জন্য একটা মিনিংলেস প্রচেষ্টা মাত্র। কারন, ৮০ ভাগ আপনি যা বুঝাতে চেয়েছেন, সেই ৮০ ভাগ দিয়ে আমার প্রত্যাশা অন্য রকম হতে পারে। হ্যাঁ, যদি ইস্টাব্লিশড কিছু থাকতো, তবে এটা গ্রহণযোগ্য হত।
৮। কতগুলো ওয়ার্কশপ আর ট্রেনিং করেছেন, খুব স্পষ্ট করে লিখুন। আমি কিন্তু ভাইভা- বোর্ডে জিজ্ঞাসা করি “আচ্ছা, আপনি তো এই সেমিনার এ ছিলেন, কেন গিয়েছিলেন, কে কে কথা বলেছেন, কি কি শিখেছেন, বলেন তো?” ওই সময়, যদি দেখি যে ব্লা ব্লা আর গাইগুই করেন, আমি ধরে নেই, আপনি চাপাবাজি করতেই ওই তথ্য দিয়েছিলেন। আর এটা প্রায় সব রিক্রুটাররা করেন। অতএব, আপনি বুঝুন, কোনটা দেবেন আর কোনটা দেবেন না।
৯। দয়া করে, বানান ভুল করবেন না আর গ্রামার এর কোনও মিস্টেক রাখবেন না। কোথাও পাঠানোর আগে, জানেন, এমন কাউকে দিয়ে সিভিটা চেক করিয়ে নিন। আপনার ভুল শুধু আপনার অজ্ঞতাই প্রমান করেনা, আপনি যে একটা মহা-গুরুত্বপুর্ন বিষয় নিয়ে একেবারেই সিরিয়াস না, তার ও প্রমান করে। মনে রাখবেন, সবাই কিন্তু ছোট্ট ভুলও মাফ করবার অবস্থায় থাকেনা।
১০। ব্যাক্তিগত তথ্য ও রেফারেন্স দেবার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। নিজের গ্রাম-গঞ্জ বলবার সময়, অপ্রয়োজনীয় তথ্য বাদ দিন। আর, রেফারেন্সের ক্ষেত্রে, একজন একাডেমীক আর একজন পারলে কোনও প্রফেশনাল এর দিন। দয়া করে, এমন কাউকে দেবেন না যিনি আপনাকে নিয়ে তথ্য দিতে পারবেন না ।
সিভি আপনার মার্কেটিং টুল এবং আপনার ব্যাক্তিত্বের পরিচায়ক। আপনি সিভিতে নিজেকে ফুটিয়ে তুলুন, সময়োপযোগী করে, জব-এর প্রয়োজনীয়তা বুঝে। মনে রাখবেন, সিভি ইজ নট আ ফরম্যাট, ইট’স আ ডিসপ্লে অফ কন্টেন্টস এন্ড বিইং সিম্পল ইজ বিইং এক্সট্রা অরডিনারি।
হ্যাপি সিভি প্রিপেয়ারিং!!!